ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জীবন রক্ষাকারী যে জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি সবারই জানা দরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক
আপলোড সময় : ২৫-০৩-২০২৫ ০৬:৪৬:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৩-২০২৫ ০৬:৪৬:২৭ অপরাহ্ন
জীবন রক্ষাকারী যে জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি সবারই জানা দরকার
বাংলাদেশে অভিনেতা আহমেদ রুবেলের আকস্মিক মৃত্যু তার পরিচিতজন ও গুণগ্রাহীদের তো বটেই, দেশের আরও অনেককেই বেশ ধাক্কা দিয়েছে। বুধবার তিনি জ্ঞান হারানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালে নিলেও ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হঠাৎ এরকম অসুস্থ হয়ে পড়ার সময় থেকে হাসপাতালে যাওয়া পর্যন্ত এই সময়টা কারও জীবন বাঁচানোর জন্য হয়ে উঠতে পারে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে একটা জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা থাকলে তা আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যেটাকে বলে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সংক্ষেপে 'সিপিআর'।

কেউ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে বা শ্বাস প্রশ্বাস চালু না থাকলে, সেই ব্যক্তিকে সিপিআর দিতে হয়।

এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়া হয়, একই সাথে শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সঞ্চালন করতে থাকে, ফলে জীবন বাঁচানোও সম্ভব নয়।

সিপিআর বিশ্ব জুড়ে বহুল প্রচলিত এক জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি।

বিভিন্ন নাটক বা সিনেমায় অনেকেই দেখে থাকবেন কোনও অচেতন ব্যক্তির বুকের উপর দুহাত রেখে বারবার চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে এবং তার মুখে শ্বাস দেয়া হচ্ছে, যার ফলে ঐ ব্যক্তির জ্ঞান ফিরে আসছে। এটাকেই সিপিআর বলে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের তো অবশ্যই সিপিআর প্রশিক্ষণ নিতে হয়, আবার বিভিন্ন বিশেষ বাহিনী আর সংস্থার লোকজনেরও বাধ্যতামূলক সিপিআর প্রশিক্ষণ থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সাধারণ মানুষদেরও তাদের নিজেদের স্বার্থেই সিপিআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিত। যা বিশ্বের অনেক দেশে ছোট থেকেই ট্রেনিং দেওয়ানো হয়।

তবে বাংলাদেশে এর যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যায়, অনেকেই এই জীবন রক্ষাকারী সিপিআর এর ব্যাপারে সচেতন নন।

সিপিআর কখন দিতে হবে
“আপনার সামনে যদি কারো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়, তাহলে দ্রুত ৯৯৯-এ ফোন করুন এবং সিপিআর দেওয়া শুরু করুন,” ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে এমনটাই বলা আছে।

অনেকটা একই রকম কথা বলছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তাদের ভাষায়, “যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস না নেয় তাহলে ৯৯৯-এ ফোন করতে হবে এবং সিপিআর দেওয়া শুরু করতে হবে।”
 
আমেরিকান রেড ক্রসের ভাষ্য অনুযায়ী, সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন কারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে থাকে।

যখন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয় অথবা হার্টবিট নিয়মিত না হয়, তখন মস্তিষ্কে ও অন্যান্য জরুরি প্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে না।

ফলে তা মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে, যার কারণে অনেক সময় ব্যক্তি মারাও যেতে পারে। কিন্তু সিপিআর দিলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

আর এই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট যে কারও হতে পারে।

বাংলাদেশে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশরাফ উর রহমান তমাল বলেন, “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কার্ডিয়াক পেশেন্টেরও হতে পারে, আবার নন কার্ডিয়াক পেশেন্ট, যাদের কোনও হৃদরোগ নেই তাদেরও হতে পারে।”

এই চিকিৎসক বলেন, “এক্ষেত্রে কেউ জোরে আঘাত পেলে বা পড়ে গেলে, যদি দেখা যায় যে তার হার্ট বন্ধ হয়ে আসছে, তিনি মাটিতে শুয়ে পড়ছেন তখন সিপিআর শুরু করলে তাকে বাঁচানোর সময় পাওয়া যায়।“

এরকম পরিস্থিতি যেমন হৃদরোগ থেকে হতে পারে, তেমনি ইলেকট্রিক শক, জোরে আঘাত, পানিতে ডুবে, শরীরে বড় ধরনের ইনফেকশন থাকা, এমন নানা কারণেই হতে পারে - যাতে করে হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

আর এমন সময় গুলোতেই জরুরি ভিত্তিতে সিপিআর দেয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

“হার্ট বন্ধ হলে খুব অল্প সময় দেয়, ৫-৭ মিনিট, এরপর যদি হার্ট ফিরেও আসে পেশেন্টের ব্রেইন ডেথ হয়ে যায়”, বলেন ডা. আশরাফ।

এ কারণেই সিপিআর দ্রুত একেবারে প্রথম অবস্থাতেই শুরু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

যেখানে প্রথম ধাপেই নিরাপত্তার দিকটা দেখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে আগুন বা পানির মতো কোন বিপদ আছে কি না, তিনি রাস্তার মাঝখানে কি না ইত্যাদি বিষয়। প্রয়োজনে পিপিই বা পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে দেখতে হবে ব্যক্তিটি কোনও সাড়া দেয় কি না। এজন্য তাকে ধাক্কা দিয়ে জোরে জোরে ডাকতে হবে। একই সাথে পরীক্ষা করে দেখে নিশ্চিত হতে হবে যে কোনও রক্তক্ষরণ হচ্ছে না।

যদি লোকটির কোনও সাড়া না পাওয়া না যায় এবং সে যদি নিঃশ্বাস না নেয়, তার পালস না থাকে অথবা যদি ঘড়ঘড় করে, তাহলে এই পর্যায়ে তৃতীয় ধাপে এসে সাহায্যের জন্য ডাকতে হবে ও ৯১১ নাম্বারে (অথবা সে দেশে যেটা ইমার্জেন্সি বা জরুরি পরিষেবার নম্বর) কল করতে হবে।

এরপর চতুর্থ ধাপে হাঁটু গেড়ে ঐ ব্যক্তির পাশে বসতে হবে। এ সময় হাত কাঁধ বরাবর সামনে থাকবে, আর ঐ ব্যক্তিকে সমতল জায়গায় চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dinajpur TV

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ